ঢাকা

আজমিরীগঞ্জে কৃষি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা জোরদার, শুরু হচ্ছে বোরো ধান সংগ্রহ

কুশিয়ারা বার্তা

প্রকাশিতঃ

Shares

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় কৃষকদের কল্যাণে পরিচালিত কৃষি সংক্রান্ত আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং বোরো ধান সংগ্রহ-২০২৬ মৌসুমে কৃষক নির্বাচন কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা কৃষি সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি কার্যক্রমে মোট ৫ হাজার ২১টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৮৪টি আবেদন মঞ্জুর করা হয়। একইসঙ্গে বোরো ধান সংগ্রহের জন্য কৃষক বাছাইয়ে উন্মুক্ত লটারি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রকৃত কৃষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা খাদ্য বিভাগের আয়োজনে লটারি কার্যক্রম ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। তিনি বলেন, সরকার কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। লটারির মাধ্যমে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে কৃষক নির্বাচন করা হচ্ছে এবং এতে কোনো ধরনের তদবির বা অনিয়মের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, হাওরাঞ্চলের প্রকৃত কৃষক যেন সরাসরি সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া হবে না। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, চলতি মৌসুমে সরকার নির্ধারিত ৩৬ টাকা কেজি দরে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। লটারির মাধ্যমে ইউনিয়ন ও পৌরসভা ভিত্তিক আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সদর ইউনিয়ন থেকে ৫০৬ জনের মধ্যে ৬৪ জন, বদলপুরে ৬৯৯ জনের মধ্যে ৬৭ জন, জলসুখা ইউনিয়নে ৭০৯ জনের মধ্যে ৬৭ জন, পৌরসভায় ৮০২ জনের মধ্যে ৭৬ জন, শিবপাশায় ১১৩৩ জনের মধ্যে ১০৭ জন এবং আরেক জলসুখা ইউনিয়ন অংশে ১১৭২ জনের মধ্যে ১১১ জন কৃষক নির্বাচিত হয়েছেন।
অন্যদিকে কৃষি অফিস সূত্র জানায়, আবেদনকারীদের স্বচ্ছ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যাতে সরকারি সুবিধা সঠিকভাবে তাদের হাতে পৌঁছায়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন, আজমিরীগঞ্জ এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামছুল হুদা ফয়সাল, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ কৃষকরাও উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে এবং সরকারি সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে এ ধরনের স্বচ্ছ কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি উন্নয়নের এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আগামী ১৫ মে থেকে উপজেলা খাদ্য গুদামে আনুষ্ঠানিকভাবে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

Tags: