আহত গুরুতর দুইজন হলেন— কালাম মিয়া (৫০) ও সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সুমন (৩৫)। এছাড়া নিপু মিয়া (২৬), কুরুশ মিয়া (৬০), সাব্বির মিয়া (৪৫), রিপন মিয়া (২৮), জুনু মিয়া (২৬)সহ অন্যান্যরা নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা যায়, কুর্শি গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক ও নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী নয়ন এবং এনটিভি ইউরোপের নবীগঞ্জ প্রতিনিধি এবিএম হুমায়ুন চৌধুরী মামুনের বাড়িতে বসতঘরের সংস্কার কাজের জন্য একটি বালুবোঝাই ট্রাক আসছিল। ট্রাকটি বাড়ির প্রবেশমুখে কুর্শি কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে পৌঁছামাত্রই স্থানীয় ইউপি আওয়ামী লীগ নেতা হারুন মিয়া এবং সদ্য জেলফেরত ইউপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান তৌফিকের নেতৃত্বে সশস্ত্র লোকজন হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ট্রাকটি ভাঙচুর করে এবং চালকের কাছ থেকে নগদ টাকা লুট করে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ড ১২-৬৮৩৭।
হামলার সময় সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় এবং এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, নিরপরাধ ট্রাকচালকের ওপর হামলা ও ট্রাক ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ট্রাক শ্রমিকরা নবীগঞ্জ–আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের কুর্শি এলাকায় প্রায় আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পৃথক দুটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাংবাদিক পরিবার ও ট্রাক শ্রমিকরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
